প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে সম্পর্ক সবসময়ই রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী গতিপথ নির্ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সম্পর্কে নতুন এক মাত্রা যুক্ত হলো। রোববার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক নেতারা। দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের শীর্ষ করপোরেট ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর এমন সরব উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯০০ সালের প্রথম দিক থেকেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও তালুকদাররা পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের সমর্থন ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শক্তির অন্যতম উৎস। তবে স্বাধীনতার পর থেকে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নীতিনির্ধারণী দ্বন্দ্ব।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে যে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে, তার প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি চলায় ব্যবসায়ীরা স্থিতিশীল অর্থনীতির নিশ্চয়তা চান। এই প্রেক্ষাপটেই তারেক রহমানের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং দেশের বেসরকারি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকটি ছিল মূলত দেশের অর্থনীতির ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়। উপস্থিত ছিলেন:
শীর্ষ চেম্বার ও সংগঠন: আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন ও এ কে আজাদ, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
শিল্প গ্রুপ: স্কয়ার গ্রুপের তপন চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল, ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমান, প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, বিএসআরএম-এর আলী হোসেইন আকবরআলী এবং পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার।
অন্যান্য: উত্তরা মোটরসের মতিউর রহমান, ইউসিবিএল চেয়ারম্যান শরীফ জহির এবং বিএপিআই সভাপতি আব্দুল মোকতাদিরসহ অন্যান্যরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই বৈঠকে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের প্রভাব ক্রমপরিবর্তনশীল। ১৯৩৭-এর বঙ্গীয় আইনসভার নির্বাচনে যেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন, বর্তমানে সেখানে দলীয় আদর্শ ও বাণিজ্যিক স্বার্থ একীভূত হয়েছে। ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তার আগে দেশের মূল অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণকারী এই ব্যক্তিদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক ইঙ্গিত দেয় যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বেসরকারি খাত ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
বৈঠকে তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো আপস নেই।" তার এই বার্তা থেকে স্পষ্ট যে, আগামীর বাংলাদেশ হবে ব্যবসা-বান্ধব এবং বৈষম্যহীন।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিভাগ - ২০২৬)।
২. বাসস (BSS) ও সরকারি তথ্য বিবরণী (জানুয়ারি ৪, ২০২৬)।
৩. বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস ও হলফনামা পর্যালোচনা (১৯৭৩-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |